![]() |
| Trump visa freeze Pakistan Bangladesh political cartoon |
ভূমিকা: ভিসা নয়, এটা ছিল বিশ্ব রাজনীতির প্রকাশ্য অপমান
১৪ জানুয়ারি ২০২৬।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করলেন—৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ।
কাগজে কলমে বলা হলো—
👉 “ওয়েলফেয়ার অপব্যবহার”
👉 “আমেরিকান ট্যাক্সপেয়ারের বোঝা”
👉 “জাতীয় স্বার্থ”
বাস্তবে যা হলো—
এটা ছিল একসাথে তিনটি জিনিস:
-
তথ্যহীন রাজনৈতিক নাটক
-
দক্ষিণ এশিয়ার উপর কূটনৈতিক চপেটাঘাত
-
অভিবাসন ব্যবস্থাকে ভূরাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করা
আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার?
যাদের নামে এই “ওয়েলফেয়ার বোমা” ফেলা হলো—তাদের বিরুদ্ধেই ওয়েলফেয়ার ব্যবহারের প্রমাণ সবচেয়ে দুর্বল।
অধ্যায় ১: “ওয়েলফেয়ার বোমা” — তথ্য ছাড়া যুদ্ধ ঘোষণা
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি:
“এই ৭৫ দেশের মানুষ আমেরিকায় এসে অস্বাভাবিক হারে ওয়েলফেয়ার খায়।”
সমস্যা:
👉 কোনো ডেটা প্রকাশ করা হয়নি
👉 কোনো পদ্ধতি জানানো হয়নি
👉 কোনো স্বাধীন স্টাডি দেখানো হয়নি
এটা ছিল বিশুদ্ধ PowerPoint ছাড়া প্রেজেন্টেশন।
বাস্তব গবেষণা কী বলে?
-
সব অভিবাসী মিলিয়ে → নেটিভ আমেরিকানদের চেয়ে ২১% কম ওয়েলফেয়ার ব্যবহার
-
নন-সিটিজেনরা → ৫৪% কম ওয়েলফেয়ার
-
এশিয়ান অভিবাসীরা → সব গ্রুপের মধ্যে সবচেয়ে কম
অর্থাৎ, যে বাড়িতে সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ খরচ হয়—সেই বাড়িতেই “বিদ্যুৎ চোর” লেখা পোস্টার লাগানো হলো।
ট্রাম্প যে “ডেটা” পোস্ট করেছিলেন, সেখানে “immigrant household” শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল—মানে, যদি একটি পরিবারের একজন আমেরিকান নাগরিক সন্তান স্কুল লাঞ্চ পায়, পুরো পরিবার “ওয়েলফেয়ার ইউজার”।
এটা পরিসংখ্যান নয়।
এটা গণিতের নামে মিম বানানো।
অধ্যায় ২: পাকিস্তান — ক্রিপ্টো চাটুকারিতা থেকে ভিসা লাইনে অপমান
পাকিস্তানের কাহিনি এখানে সবচেয়ে ট্রাজিকমেডি।
একদিকে—
-
সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী মাসের পর মাস ট্রাম্প-ঘেঁষা কূটনীতি
-
ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ কোম্পানির সঙ্গে ক্রিপ্টো চুক্তি
-
USD1 স্টেবলকয়েন, ডিজিটাল পেমেন্ট, ফিনান্স রিফর্ম—সবকিছুতে “Yes Sir”
অন্যদিকে—
👉 ১৪ জানুয়ারি, একই দিনে ভিসা ফ্রিজ।
👉 পাকিস্তান নাম লিখে, সই করে, সিল মেরে তালিকায়।
মানে কী দাঁড়াল?
পাকিস্তান কূটনীতি ভেবেছিল—
“ট্রাম্পের সাথে ডিল = নিরাপত্তা”
বাস্তবতা হলো—
“ট্রাম্পের সাথে ডিল = ছবি, সেলফি, আর তারপর লাইনে দাঁড়াও।”
ক্রিপ্টো দিল
প্রশংসা দিল
কূটনৈতিক মাথা নোয়াল
ফলাফল?
ভিসা কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা ৭৫ দেশের ভিড়ে পাকিস্তানও।
এটাই আধুনিক ভূরাজনীতি:
চুক্তি স্মারক, কিন্তু সম্মান অস্থায়ী।
অধ্যায় ৩: বাংলাদেশ — গাজা থেকে ভিসা ডেস্ক পর্যন্ত চাপের রাজনীতি
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টা আরও নগ্ন।
একদিকে—
-
রেমিট্যান্সে কর
-
H-1B কঠোরতা
-
ভিসা বিলম্ব
অন্যদিকে—
হঠাৎ ঘোষণা:
👉 “গাজা স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সে আগ্রহী বাংলাদেশ।”
দেশের ভেতরে আগুন।
রাজনৈতিক চাপ।
জনগণের ক্ষোভ।
কয়েকদিন পর সরকার পিছু হটে।
এরপর?
👉 ভিসা ফ্রিজ।
বার্তা পরিষ্কার:
“লাইন ছাড়লে—লাইসেন্স কাটা হবে।”
এখানে ভিসা কোনো অভিবাসন টুল নয়।
এটা রিমোট কন্ট্রোল।
যে সরকার যত দুর্বল,
তার জনগণের ভিসা তত শক্তভাবে ধরা যায়।
অধ্যায় ৪: নেপাল, ভুটান — ডিপ্লোমেসির ডাস্টবিনে ছোট দেশ
নেপাল—GDP-র প্রায় এক-চতুর্থাংশ রেমিট্যান্স।
ভুটান—শিক্ষা ও স্কিল মাইগ্রেশনের উপর নির্ভরশীল।
এই দুই দেশ—
-
না আছে আমেরিকার উপর প্রভাব
-
না আছে পাল্টা চাপ দেওয়ার ক্ষমতা
-
না আছে মিডিয়া শক্তি
তাদের অপরাধ কী?
👉 “তালিকা পূরণ।”
বড় মাছ ধরার জালে, ছোট মাছও আটকায়।
অধ্যায় ৫: ভিসা ফ্রিজ মানে কী? কাগজে খোলা, বাস্তবে তালাবদ্ধ
এই নীতির সবচেয়ে ভণ্ডামি অংশ:
“আবেদন করতে পারবেন, কিন্তু ভিসা পাবেন না।”
মানে—
-
ফি নেব
-
ইন্টারভিউ নেব
-
কাগজ নেব
-
আশা বিক্রি করব
কিন্তু ফলাফল?
👉 শূন্য।
এটা অভিবাসন নয়।
এটা বায়োলজিক্যাল হোল্ড।
স্পাউস অপেক্ষায়
শিশু অপেক্ষায়
এমপ্লয়ার অপেক্ষায়
আর সরকার বলছে—
“Review চলছে।”
Review কিসের?
ডেটাই তো নেই।
অধ্যায় ৬: অর্থনৈতিক ক্ষতি — রেমিট্যান্সে ধীরে ধীরে বিষ
এই ভিসা ফ্রিজ কোনো বোমা নয়।
এটা ধীরে ধীরে ছড়ানো বিষ।
কারণ—
-
পরিবার আটকে গেলে → কর্মী দেশে ফেরে
-
স্থায়ী ভবিষ্যৎ না থাকলে → দক্ষ লোক কানাডা যায়
-
অনিশ্চয়তা থাকলে → ডলার অন্য দেশে যায়
দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এর মানে—
-
কম রেমিট্যান্স
-
কম ভোগ
-
কম বিনিয়োগ
-
বেশি মুদ্রা সংকট
আমেরিকার জন্য?
-
শ্রম ঘাটতি
-
ট্যাক্স লস
-
ইনোভেশন স্লোডাউন
কিন্তু রাজনীতিতে অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ নয়।
শিরোনাম গুরুত্বপূর্ণ।
অধ্যায় ৭: আইন কোথায় দাঁড়ায়? ক্ষমতা আছে, যুক্তি নেই
হ্যাঁ, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আছে।
কিন্তু সমস্যা ক্ষমতা নয়।
সমস্যা হলো—শূন্য ব্যাখ্যা।
-
কেন এই ৭৫টি দেশ?
-
কেন ভারত নেই?
-
কেন চীন নেই?
-
কেন মেক্সিকো নেই?
কোনো মানদণ্ড নেই।
কোনো তালিকা নেই।
কোনো রিপোর্ট নেই।
এটা প্রশাসন নয়।
এটা জিওগ্রাফিক লটারী।
অধ্যায় ৮: আসল শিক্ষা — ভিসা এখন কূটনৈতিক অস্ত্র
এই ঘটনার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন:
ইমিগ্রেশন আর সামাজিক নীতি নয়।
এটা এখন ফরেন পলিসি হুইপ।
-
চুক্তি না মানলে → ভিসা
-
ভোটে সমস্যা হলে → ভিসা
-
মিডিয়া বার্তা দরকার হলে → ভিসা
পাসপোর্ট এখন রাজনৈতিক কলার।
উপসংহার: ভিসা ফ্রিজ নয়, এটা ছিল দক্ষিণ এশিয়ার ডিপ্লোমেটিক এক্স-রে
এই নীতিতে তিনটি জিনিস নগ্ন হয়ে গেছে:
-
ডেটা নয়, নাটক চালায়
-
চুক্তি নয়, ভোটব্যাংক চালায়
-
সম্মান নয়, লিভারেজ চালায়
পাকিস্তান শিখেছে—
👉 চাটুকারিতা ঢাল নয়।
বাংলাদেশ শিখেছে—
👉 নীরবতা নিরাপত্তা নয়।
নেপাল-ভুটান শিখেছে—
👉 ছোট দেশের ভিসা বড় দেশের পোস্টার।
আর দক্ষিণ এশিয়া শিখেছে একটাই জিনিস—
২১ শতকে অভিবাসন আর সুযোগ নয়।
এটা ক্ষমতার ভাষা।
