Iran protests 2025–26 represent the deepest legitimacy crisis in the Islamic Republic’s history. Millions across Iran have taken to the streets amid economic collapse, inflation, and political repression. However, despite the scale of anger, experts argue that a full revolution remains unlikely—at least for now—due to the regime’s intact security structure and lack of elite defection.
গভীর বৈধতা সংকট, তবু রাষ্ট্র কাঠামো এখনও অটুট
ইরানে ২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ নিয়ে একটি মৌলিক প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে—
ইরান কি সত্যিই আরেকটি বিপ্লবের দিকে এগোচ্ছে, নাকি এটি আগের মতোই দমন করা অসন্তোষের আরেকটি চক্র?
এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে দু’টি বিষয়ের পার্থক্য বোঝার উপর:
১) জনগণের ক্ষোভ কতটা গভীর
২) রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা সেই ক্ষোভ সহ্য করার ক্ষমতা এখনও কতটা ধরে রেখেছে
২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত। এটি নিঃসন্দেহে ইসলামিক রিপাবলিকের জন্য একটি গভীর বৈধতা সংকট তৈরি করেছে। কিন্তু ১৯৭৯ সালের বিপ্লব যেসব কাঠামোগত শর্তের উপর দাঁড়িয়ে ছিল, তার অনেকগুলোই আজ অনুপস্থিত। ফলে আপাতত সম্পূর্ণ শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম—যদি না হঠাৎ করে অভিজাত স্তরে বড় ধরনের ভাঙন বা কোনও বড় বাহ্যিক ধাক্কা আসে।
১৯৭৯ বনাম ২০২৫–২৬: বিপ্লবের শর্তের তুলনা
ইতিহাস দেখায়, শুধু রাস্তায় মানুষ নামলেই বিপ্লব হয় না।
১৯৭৯ সালে ইরানে যা ঘটেছিল, তা ছিল বহু কাঠামোগত ব্যর্থতার সম্মিলিত ফল।
আজকের পরিস্থিতি অনেক দিক থেকে আলাদা।
অর্থনৈতিক বিপর্যয়: ক্ষোভের বিস্তার সর্বকালের অন্যতম
২০২৫ সালে ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
-
ইরানি রিয়ালের মূল্য এক বছরে ডলারের বিপরীতে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে
-
খাদ্যদ্রব্যের দাম বছরে বেড়েছে ৭২ শতাংশ
-
ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ
-
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির মতে, ২০২৬ সাল জুড়েই মুদ্রাস্ফীতি ৪০ শতাংশের উপরে থাকবে
এই অর্থনৈতিক ধস এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে ক্ষোভ শুধু একটি শ্রেণিতে সীমাবদ্ধ নেই।
কারা রাস্তায় নেমেছে?
-
বাজারের ব্যবসায়ী ও দোকানদার (যারা ঐতিহাসিকভাবে রক্ষণশীল ছিল)
-
ছাত্র ও তরুণ প্রজন্ম
-
কারখানার শ্রমিক
-
অবসরপ্রাপ্ত ও পেনশনভোগী মানুষ
-
নারী আন্দোলনকারীরা
-
জেনারেশন Z
এই বৈচিত্র্যই এই আন্দোলনকে বিশেষ করে তুলেছে।
স্লোগানের পরিবর্তন: শুধু পেট নয়, এখন রাজনীতি
এই আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্লোগানের রূপান্তর।
আগে যেখানে দাবি ছিল:
-
দাম কমাও
-
বেতন বাড়াও
-
চাকরি দাও
এখন সেখানে শোনা যাচ্ছে:
-
“স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক”
-
“শাহকে ফিরিয়ে আনো”
-
“গাজা নয়, লেবানন নয়—আমার জীবন ইরানের জন্য”
এই শেষ স্লোগানটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এর মানে হলো—
মানুষ শুধু অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি নয়, ইরানের বিদেশনীতি ও আঞ্চলিক যুদ্ধ খরচকেও নিজেদের দুঃখের জন্য দায়ী করছে।
যখন বাজারের ব্যবসায়ীরা—যারা একসময় এই ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ছিল—খোলাখুলি বলে যে বিদেশে টাকা খরচ বন্ধ করতে হবে, তখন বোঝা যায় রাষ্ট্র তার ঐতিহাসিক সামাজিক ভিত্তির একটি বড় অংশ হারাচ্ছে।
তবু ক্ষোভ মানেই রাষ্ট্র ভাঙন নয়
এখানেই আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।
ক্ষোভ ব্যাপক, কিন্তু সংগঠিত শক্তিতে রূপান্তরিত নয়।
-
ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করছে, কিন্তু রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টা নেই
-
ছাত্ররা রাস্তায় আছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেই
-
শ্রমিকরা বিচ্ছিন্নভাবে অংশ নিচ্ছে, কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে কোনও শ্রমিক ধর্মঘট এখনও শুরু হয়নি
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ২০০০ সালের পর থেকে হওয়া অর্থনৈতিক সংস্কার শ্রমিক শ্রেণিকে এতটাই বিভক্ত করেছে যে তারা একসঙ্গে বড় আঘাত হানতে পারছে না।
শাসনব্যবস্থার আসল শক্তি: নিরাপত্তা কাঠামো
১৯৭৯ সালের সঙ্গে আজকের সবচেয়ে বড় পার্থক্য এখানেই।
১৯৭৯ সালে কী হয়েছিল?
-
সেনাবাহিনীর একাংশ বিদ্রোহ করেছিল
-
পুলিশ আদেশ মানতে অস্বীকার করেছিল
-
প্রশাসন কার্যত ভেঙে পড়েছিল
২০২৫–২৬ সালে কী হচ্ছে?
-
নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ
-
কোনও বড় সেনা বা গার্ড বাহিনীর ভাঙনের প্রমাণ নেই
-
প্রশাসনিক কাঠামো এখনও কাজ করছে
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) আজ শুধু একটি সামরিক শক্তি নয়—এটি একটি অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য।
IRGC: অর্থনীতি, ক্ষমতা ও আনুগত্য
২০২৫ সালে সরকার সামরিক ও নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ করেছে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা আগের তুলনায় প্রায় ২০০ শতাংশ বেশি।
এই অর্থ আসে:
-
তেল আয় থেকে
-
ছায়া ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক থেকে
-
নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা ব্যবসা থেকে
IRGC-সংযুক্ত সংস্থাগুলি:
-
তেল ও গ্যাস
-
নির্মাণ
-
টেলিকম
-
রপ্তানি
এই সব মিলিয়ে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ কৌশলগত সম্পদের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ।
এর ফলে নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কষ্ট থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন।
তাদের আনুগত্য আদর্শে নয়—স্বার্থে বাঁধা।
রাষ্ট্রপতি বনাম নিরাপত্তা বাহিনী: বিভাজন আছে, ভাঙন নেই
বর্তমান রাষ্ট্রপতি সংলাপ ও সমঝোতার কথা বললেও, তার হাতে নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেই।
নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার অধীনে।
এই দ্বন্দ্ব দেখায়:
-
শাসনব্যবস্থার ভিতরে মতপার্থক্য আছে
-
কিন্তু প্রতিষ্ঠান ভাঙেনি
বিশ্লেষকদের মতে, এটি “কীভাবে দমন করা হবে” তা নিয়ে বিতর্ক—
“দমন করা হবে কি না” তা নিয়ে নয়।
বিপ্লবের জন্য যে শর্তগুলো নেই
১. জাতীয় শিল্প ধর্মঘট নেই
১৯৭৯ সালে তেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
আজ তেল উৎপাদন চলছে।
২. সেনাবাহিনীর ভাঙন নেই
IRGC আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী।
৩. বিকল্প ক্ষমতাকেন্দ্র নেই
ভিতরে কোনও ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব নেই।
বাইরে অনেকে থাকলেও, দেশের ভিতরে সংগঠন নেই।
৪. আন্তর্জাতিক পটভূমি বদলায়নি
নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়।
এটি কষ্ট বাড়ায়, কিন্তু হঠাৎ পতন আনে না।
তবু শাসনব্যবস্থা দুর্বল কোথায়?
দুর্বলতা আছে, তা অস্বীকার করা যায় না।
-
রাজনৈতিক অভিজাতদের মধ্যে প্রকাশ্য বিবাদ
-
দুর্নীতির অভিযোগে সংসদে ঝগড়া
-
মৃত্যুদণ্ডের হার বৃদ্ধি (ভয়ের লক্ষণ)
-
আঞ্চলিক প্রভাব কমে যাওয়া
এই সবই দেখায় যে ব্যবস্থা চাপের মধ্যে আছে।
কিন্তু ইতিহাস কী বলে?
২০০৯, ২০১৯, ২০২২—
প্রতিবারই মনে হয়েছিল, এবার বুঝি শেষ।
প্রতিবারই রাষ্ট্র:
-
আরও কঠোর হয়েছে
-
আরও নজরদারি বাড়িয়েছে
-
আরও সংগঠিত হয়েছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান আজ একটি পেশাদার নিরাপত্তা রাষ্ট্র।
বিপ্লবী আন্দোলন, কিন্তু বিপ্লবী পরিস্থিতি নয়
সমাজবিজ্ঞানীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য করেন—
-
Revolutionary Movement: মানুষ পরিবর্তন চায়
-
Revolutionary Situation: রাষ্ট্র ভাঙছে, বিকল্প তৈরি হয়েছে
আজ ইরানে প্রথমটি আছে, দ্বিতীয়টি নেই।
মানুষ ভবিষ্যৎ কল্পনা করছে ভিন্নভাবে।
কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নের যন্ত্র এখনও নেই।
কী হলে পাল্টে যেতে পারে পরিস্থিতি?
১. নিরাপত্তা বাহিনীর ভাঙন
যদি বড় কমান্ডাররা দূরে সরে যায়
২. জাতীয় শ্রমিক ধর্মঘট
বিশেষ করে তেল ও বিদ্যুৎ খাতে
৩. উত্তরাধিকার সংকট
সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা বড় ভূমিকা নিতে পারে
৪. বড় বাহ্যিক আঘাত
যুদ্ধ বা বড় সামরিক হামলা
Iran Protests vs Revolution Conditions
| প্রশ্ন | ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লব | ২০২৫–২৬ সালের ইরান বিক্ষোভ |
|---|---|---|
| আন্দোলনের মূল কারণ কী? | স্বৈরতন্ত্র, রাজনৈতিক দমন, অর্থনৈতিক অসন্তোষ | অর্থনৈতিক ধস, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, রাজনৈতিক দমন |
| অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ? | তেল ধর্মঘটে অর্থনীতি কার্যত অচল | মুদ্রাস্ফীতি ৪০%+, কিন্তু তেল উৎপাদন চলছে |
| সামরিক বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল? | সেনাবাহিনীর বড় অংশ ভেঙে পড়ে | নিরাপত্তা বাহিনী ঐক্যবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত |
| নিরাপত্তা কাঠামো কি ভাঙছে? | হ্যাঁ, পুলিশ ও সেনা আদেশ মানেনি | না, সম্পূর্ণ সক্রিয় ও শক্তিশালী |
| শ্রমিক ধর্মঘটের অবস্থা | জাতীয় তেল ধর্মঘট রাষ্ট্রকে পঙ্গু করে | বিচ্ছিন্ন ধর্মঘট, জাতীয় পর্যায়ে নয় |
| বাজার (Bazaar) শ্রেণির অবস্থান | বিপ্লবকে সক্রিয় সমর্থন | প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে, কিন্তু ক্ষমতা দখলের চেষ্টা নেই |
| বিকল্প নেতৃত্ব কি ছিল? | খোমেনি নেতৃত্বাধীন সংগঠিত কাঠামো | কোনও ঐক্যবদ্ধ অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নেই |
| বিরোধী শক্তির ঐক্য | তুলনামূলকভাবে ঐক্যবদ্ধ | বিভক্ত (মনarchist, republican, secular) |
| আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট | পশ্চিমা সমর্থন প্রত্যাহার | নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘদিনের, নতুন মোড় নেই |
| রাষ্ট্র কাঠামোর অবস্থা | প্রশাসন ভেঙে পড়েছিল | প্রশাসন এখনও কার্যকর |
| পরিণতি | পূর্ণ বিপ্লব ও শাসন পরিবর্তন | গভীর বৈধতা সংকট, কিন্তু পতন নয় |
| বিষয় | ১৯৭৯ | ২০২৫–২৬ |
|---|---|---|
| সামরিক ভাঙন | ✔️ ছিল | ❌ নেই |
| জাতীয় ধর্মঘট | ✔️ ছিল | ❌ নেই |
| বিকল্প সরকার | ✔️ ছিল | ❌ নেই |
| গণ ক্ষোভ | ✔️ ছিল | ✔️ আছে |
| রাষ্ট্র দমন ক্ষমতা | ❌ দুর্বল | ✔️ শক্তিশালী |
উপসংহার: বৈধতা সংকট গভীর, কিন্তু রাষ্ট্র এখনও দাঁড়িয়ে
ইরান তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈধতা সংকটে আছে।
মানুষের ক্ষোভ বাস্তব, বিস্তৃত এবং গভীর।
কিন্তু:
-
নিরাপত্তা কাঠামো অটুট
-
অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত
-
বিরোধীরা বিভক্ত
ফলে আগামী ৬–১২ মাসে সম্ভাব্য চিত্র হলো—
বিক্ষোভ, দমন, আবার বিক্ষোভ
“বিপ্লব ২.০” শব্দটি অনুভূতিকে ধরছে, বাস্তবতাকে নয়।
ইরান এখন একটি দীর্ঘ প্রাক-বিপ্লবী অবস্থায় আছে—
যেখানে মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হয়েছে,
কিন্তু কাঠামোগত পতন এখনও আসেনি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন একটাই:
যদি ক্ষমতাধর এলিটরা একদিন মনে করে, এই ব্যবস্থা আর তাদের স্বার্থ রক্ষা করছে না—সেদিনই ইতিহাস বদলাবে।
ততদিন পর্যন্ত, ইসলামিক রিপাবলিক দুর্বল হলেও, এখনও টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে।